সমাবর্তন চাই কথাটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবী | National University Convocation

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবী

সমাবর্তনের কথা মনে পড়লে যে ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে পড়নে কালো গাউন এবং মাথায় কালো টুপি পড়ে এক ফালি হাসি দিয়ে ফটো তুলছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনার সময় এ দৃশ্য আজীবন স্মৃতির পাতায় থাকে। সমাবর্তনা পাওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের লালিত স্বপ্ন। এটা শুধুমাত্র গাউন আর টুপি পড়ে ছবি তুলা নয় এটার সাথে অনেক সম্মান এবং গর্ব জড়িত। কিন্তু খুবই দুঃখের বিষয় , এ ধরনের সম্মান শুধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতেই দেখা যায়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এর থেকে বঞ্চিত।

প্রতি বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সারা বাংলাদেশের ৮৫৭ কলেজ থেকে প্রায় ৪লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করে থাকেন। স্নাতক সম্পন্ন করার পর ওদের হাতে শুধু মাত্র একটি কাগুজে সার্টিফিকেট ধরিয়ে দেওয়া হয়, কোন সমাবর্তনা দেওয়া হয় না।
অথচ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতিবছর অথবা এক দুই বছর অন্তর অন্তর সমাবর্তনা দেওয়া হয়ে থাকে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে এটা এখন পর্যন্ত স্বপ্ন থেকে গেছে।

যদিও প্রতিষ্ঠার আরাই দশক পর, ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম সমাবর্তনা। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে হওয়া এ সমাবর্তনায় ভোগান্তি বিরাজমান ছিল। সমাবর্তনার দিন দেওয়া হয়নি কোন সার্টিফিকেট। ছিল না ভাল কোন ব্যবস্থাপনা । সমাবর্তনা পাওয়া সকল স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার। অথচ লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে প্রথম সমাবর্তনা থেকে গুটি কয়েকজন শিক্ষার্থী পেয়েছিলেন সমাবর্তনা।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনা বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা এবার তাদের অধিকার আদায় করার জন্য কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় তারা ‘সমাবর্তনা চাই’ নামক ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে সমাবর্তনা পাওয়ার অধিকার সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে চাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য, সারা বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একতার মাধ্যমে তাদের ন্যায্য অধিকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে পৌছানো।

সমাবর্তনা ছাড়াও তাদের আরো কিছু দাবি, যেগুলোর বাস্তবায়ন চান খুব দ্রুত।
দাবি গুলো হলঃ
(১) এনইউ এর সার্ভার শক্তিশালী করা,
(২) পরীক্ষা যথাযথ সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়া
(৩) সেশন জট কমিয়ে আনা
(৪) প্রতিটি কলেজে উন্নতমানের লাইব্রেরি ব্যবস্থা করা
(৫) খাতার যথার্থ তথা উপযুক্ত মুল্যায়ন করা।

শিক্ষা ক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদান উল্লেখযোগ্য, প্রাণের দাবী সফল হোক।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *